Skip to main content

Ransomware কি? Ransomware এ আক্রান্ত হলে কি করবেন?

 



Ransomware কী?


আজকের দিনে আমরা অনেকেই “র‍্যানসমওয়ার” এর নামটা হয়ত শুনে থাকবো,

আবার অনেকের কাছে এই নামটা একদম নতুন। র‍্যানসমওয়ার ২০১৩ সালে প্রথম রাশিয়া থেকে ছড়ায় ,এবং ধিরে ধিরে আন্তর্জাতিক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

সহজ ভাষায় র‍্যানসমওয়ার হল একধরনের ম্যালওয়ার বা প্রোগ্রাম যেটি কম্পিউটার ডিভাইসকে আক্রান্ত করার পর ব্যাবহারকারীকে তার কম্পিউটার ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখে , তার সকল ফাইল এনক্রিপটেড করে এক্সেস নিয়ে নেয় এবং এরপর ব্যাবহারকারীদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে।

র‍্যানসামওয়্যার ম্যালওয়্যার হলেও অন্যন্য ম্যালওয়্যার চেয়ে আলাদা, কারন এর কার্যপদ্বাতিটি সম্পুর্ন আলাদা। অন্য কোনো ম্যালওয়ার হয়ত আপনার কোনো ফাইলের ক্ষতি করবেনা। Worms,Trojans ,Viruses, Ransomware এগুলা সবি ম্যালওয়ার এর অন্তভুক্ত । এদের মধ্যে Worms কম্পিউটারের কোনো ক্ষতি করেনা, Trojans কম্পিউটার এর কোনো ফাইল ডিলিট করেনা নস্ট করেনা বরং এটি সিকিউরিটি নস্ট করে যাতে পরে তথ্য চুরি করা যায়

বা অন্য কোনো ম্যালওয়ার আক্রমন করবে সেই পথ তৈরী করে।

র‍্যানসমওয়ার তার সিস্টেম এর মাধ্যমে একজন ব্যাবহারকারীর স্টোরেজে থাকা সকল ফাইল একটি কি (চাবি) এর মাধ্যমে ইনক্রিপট করে ফেলে। এই কি এতোই আলাদা/বড় হয় যে যা ছাড়া ফাইল গুলা পুনরায় উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব।

এবং তার কম্পিউটার স্ক্রিনে বার্তা দেয় যে তার সব ফাইল ইনক্রিপটেড করা হয়েছে যদি এই ফাইল গুলো উদ্ধার করার জন্য মুক্তিপণ না দেয়া হয় সেখানে ফাইল অনলাইনে উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

র‍্যানসমওয়্যার হল ক্রিপ্টোভাইরাল এক্সটরশন এর মত। এই ফাইলটি অনেকটা সফটয়ার এর মত। যা একজন ব্যাবহারকারীর চোখ ফাকি দিয়েই তার কম্পিউটারে প্রবেশ করে, এবং ব্যাবহারকারীদের ইনস্টল এর পরেই সেখানে র‍্যানসমওয়ার ধিরে ধিরে আক্রমণ শুরু করে।



র‍্যানসমওয়ার কিভাবে ক্ষতি করে ?


র‍্যানসমওয়ার একজন ব্যাবহারকারীর অনুমতি নিয়েই কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করে থাকে । কোনো ব্যবহারকারী যখন থার্ড-পার্টি সোর্স থেকে কোনো ফাইল ডাউনলোড করে এবং তার সিস্টেমে ইন্সটল করে তখনি র‍্যানসমওয়ার সক্রিয় হয়।

ধিরে ধিরে সে কম্পিউটারের সিস্টেমে থাকা সকল ফাইল ইনক্রিপটেড করে এবং কম্পিউটারের স্টোরেজে থাকা ব্যক্তিগত ফাইল একটি বড় কি এর মাধ্যমে ইনক্রিপটেড বা লক করে ফেলে। তখন ব্যবহারকারী চাইলেই এই কোনো ফাইল ওপেন করতে পারেনা। কারন আনলক করতে বা ফেরত পেতে ডিক্রিপশন কি লাগবে।

এবং সেখানে একটি র‍্যানসম নোট দেওয়া থাকে যেখানে বলা হয় যে ফাইলগুলো আনলক করতে বা ফেরত পেতে decryption key লাগবে।

আর হ্যাকারদের এই ব্যক্তিগত ডিক্রিপশন কি ছাড়া এই ফাইল গুলো পুনোউদ্ধ্বার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পরে। তখন হ্যাকার তাদের পরিচয় গোপন করে ই-মেইলের মাধ্যম যোগাযোগ করতে বলে, এবং বিশাল অর্থ দাবী করে ।

এই অর্থ ছাড়া কোনো ফাইল গুলা উদ্বার করা সম্ভব না তাও জানায়

এবং বিটকয়েন (ডিজিটাল মুদ্রা) এর মাধ্যমে অর্থ দাবী করে। অবৈধ পণ্য লেনদেন ছাড়াও মাদক চোরাচালান এবং অর্থপাচার কাজেও বিটকয়েনের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাই হ্যাকাররা এই পদ্ধতি বেছে নেয়।

যদি কেউ অর্থ দিয়ে ফাইল গুলা ডিক্রিপ্ট না করে তখন তারা জানায় যে তারা সকল ফাইল গুলো ইন্টারনেটে উন্মুক্ত করে দিবে।

এমন অবস্থায় আপনি হয়ত কখনোই আর ফাইল গুলো উদ্ধার করতে পারবেন না।

কারন আমাদের দেশে এই বিটকয়েন (ডিজিটাল মুদ্রা) চালু নয় আর অন্য কোনো ভাবে আপনি তাদের অর্থ দিলেও তারা আপনাকে ফাইল গুলা উদ্ধার করার পদ্ধতি কখনই বলবেনা । এবং আনলক/ ডিক্রিপ্ট করার জন্য কি দিবেনা।

এই ডিক্রিপন কি ছাড়া আপনি ফাইল গুলো কখনো আনলক করতে পারবেন না।

তখন আপনার সিস্টেম ফরমেট করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকেনা।

সেক্ষেত্রে আপনি আপনার সবগুলা ফাইল হারাবেন। নতুন করে উইন্ডোজ সেটাপ করে সব ইন্সটল করলে হয়ত আপনার এই র‍্যানসমওয়ার সরাতে পারবেন তবে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় ফাইলগুলো চাইলেই আনলক করতে পারবেন না।



আপনি র‍্যানসমওয়ার আক্রান্ত হলে কি করবেন?


যদি আপনার কম্পিউটারে কখনো র‍্যানসমওয়ার আক্রান্ত হয় তখন আপনার কিছু সূক্ষ্ম পদক্ষেপ হয়ত আপনাকে বড় কোনো বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

কারণ আপনার যা ক্ষতি হয়েছে তা হয়ত অনেক বেশি তবে আপনি যদি সঠিক সময়ে কোনো পদক্ষেপ না নেন তবে সেটি আরো ক্ষতির কারন হতে পারে।

কি কি করনীয়ঃ


প্রথমে আপনি আপনার কম্পিউটারের ইন্টারনেট কানেকশনটি বন্ধ করুন। এবং আপনার নেটোয়ার্ক থেকে কম্পিউটারদের পৃথক করুন। কারন যদি একি নেটোয়ার্কে একাধিক কম্পিউটার থাকে তখন সেগুলাও আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে।


যদি কম্পিউটার আক্রান্ত হয় সেই অবস্থায় আপনি কখনো ফাইল গুলো উদ্ধার করতে যাবেন না। কারন যতক্ষন র‍্যান্সময়ার প্রসেস চালু থাকবে ততক্ষন আপনার কম্পিউটারের নতুন ফাইল গুলাও ইনক্রিপটেড হয়ে যাবে।


আপাতত এন্টিম্যালওয়ার প্রোগ্রাম (i.e Spyhunter অথবা অন্য কোনো এন্টিভাইরাস ) ইউজ করে র‍্যান্সামওয়ার কে রেজিস্ট্রি ফাইল থেকে রিমুভ করেন।


অথবা যদি পারেন নতুন করে উইন্ডোজ ইনস্টল করতে পারেন


ফাইল গুলা কপি , কাট করতে যাবেন না বা এক্সটেনশন গুলা চেঞ্জ করার চেস্টাও করবেন না , কারন ফাইলটি ইনক্রিপটেড আপনি যদি এক্সটেনশন চেঞ্জ করেন তারপরেও আপনি ফাইল ওপেন করতে পারবেন না, সেখানে আপনার সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই না।


আপনি তাৎক্ষণিক ভাবে টাস্ক ম্যানেজার থেকে র‍্যান্সময়ার প্রসেসটি বন্ধ করলে কিংবা এন্টিভাইরাস দিয়ে এটিকে আনস্টল করলে হয়ত কিছু ফাইল এনক্রিপটেড হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারবেন।


ভুলেও হ্যাকারদের সাথে র‍্যানসম নোট এর দেয়া এড্রেস গুলোতে যোগাযোগ করতে যাবেন না, হয়ত এতে করে আপনার ক্ষতি হতে পারে,কিংবা তাদের কথায় কোনো পদক্ষেপ নিতে গিয়ে নিজেই বিপদে পরবেন।

Comments

Popular posts from this blog

Termux Beginner to Advance Guidelines

  যারা এখনো টারমাক্স সম্পর্কে জানেন বা প্রশ্ন আছে টারমাক্স ইন্সটল করার পর কি করবো? তাদের জন্য পোস্ট টি। প্রথমত, টারমাক্স ইন্সটল করেই কারো আইডি হ্যাক করা বা হ্যাকার হয়ে যাওয়ার চিন্তা বাদ দেন। আগে শেখার উপর ফোকাস করেন। এখন আসি টারমাক্স এর ব্যাপারে, টারমাক্স সম্পর্কে জানতে হলে আপনাকে প্রথমে লিনাক্স সম্পর্কে জানতে হবে। লিনাক্স কি? লিনাক্স আসলে কোন অপারেটিং সিস্টেম নয়, এটি মূলত একটি কার্নেল—বলতে পারেন, যেকোনো অপারেটিং সিস্টেমের এটি হার্ট, কেনোনা কার্নেল কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করতে সাহায্য করে। যদি সহজ ভাষায় বলতে চেষ্টা করি, অবশ্যই লিনাক্স উইন্ডোজের মতোই একটি কমপ্লিট সিস্টেম, যেটার সাহায্যে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব। তবে টেকনিক্যালি এটি উইন্ডোজ থেকেও বেশি কিছু। লিনাক্সকে একটি ইঞ্জিন বলতে পারেন, যেটি আলাদা অনেক অপারেটিং সিস্টেম চালানোর জন্য পাওয়ার প্রদান করে থাকে।  লিনাক্সের উপর তৈরি অপারেটিং সিস্টেম গুলোকে ডিস্ট্রিবিউশন বা সংক্ষেপে ডিস্ট্রো বলা হয়, যেমন- উবুন্টু, লিনাক্স মিন্ট, রেড হ্যাট, ফেডোরা, ইত্যাদি। বর্তমানে হ্যাকারদের বহুল ব্যাবহৃত Kali...

What is hacking? হ্যাকিং কি?

  হ্যাকিং বলতে একটি কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্কে অননুমোদিত অ্যাক্সেস লাভের কাজকে বোঝায়। এতে হ্যাকার অ্যাক্সেস করার জন্য অনুমোদিত নয় এমন তথ্য বা সংস্থানগুলিতে অ্যাক্সেস পেতে সিস্টেমের সুরক্ষার দুর্বলতাগুলি সনাক্ত করা এবং শোষণ করা জড়িত। হ্যাকিং বিভিন্ন কারণে করা যেতে পারে, যার মধ্যে আর্থিক লাভ, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, অথবা একটি সিস্টেমের নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং উন্নত করা। যাইহোক, এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে অনুমতি ছাড়া হ্যাকিং অবৈধ এবং এর ফলে ফৌজদারি অভিযোগ, জরিমানা এবং কারাদণ্ড হতে পারে। হ্যাকিং দুই ধরনের: এথিক্যাল হ্যাকিং এবং অনৈতিক হ্যাকিং। এথিক্যাল হ্যাকিং, যা পেনিট্রেশন টেস্টিং নামেও পরিচিত, দুর্বলতা শনাক্ত করতে এবং নিরাপত্তা উন্নত করতে সিস্টেম মালিকের অনুমতি এবং জ্ঞান নিয়ে করা হয়। অপরদিকে, অনৈতিক হ্যাকিং করা হয় অনুমতি ছাড়া এবং দূষিত উদ্দেশ্যে। এটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে হ্যাকিং যখন নৈতিক এবং অনৈতিক উভয় উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা যেতে পারে, এটি সর্বদা নৈতিক ও আইনানুগভাবে কাজ করা এবং অন্যদের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তাকে সম্মান করা গুরুত্বপূর্ণ। হ্যাকিং বলতে সাধারণত কম্...

কার্ডিং বা ক্রেডিট কার্ড হ্যাকিং কি?

  আজ আমি কার্ডিং বা ক্রেডিট কার্ড হ্যাকিং নিয়ে বেসিক আলোচনা করবো। কার্ডিং কিঃ  নরমালি বুঝতে পারছেন এটি কার্ড এর সাথে সম্পর্কিত। সাধারণত ক্রেডিট কার্ড এর ইনফর্মেশন হ্যাক করা কার্ডিং। শুধু এটাই না কার্ডিং অনেক রকমের হয়। মনে করেন যদি আপনার Coinbase বা বিভিন্ন শপিং সাইটের ইউজার পেমেন্ট ডাটাবেজে বা অন্য কোন অনলাইন অ্যাকাউন্টের অ্যাক্সেস পেতে পারি সেটাও কার্ডিং। তবে কার্ডিং যে ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহার হয় তার একটি উদাহরণ হলো কম দামে কোন প্রোডাক্ট কেনা বা ফ্রি কেনা। বাস্তব উদাহরণ হিসেবে মনে করুন আমি অনলাইন শপ থেকে একটি 5 ডলারের গিফট কার্ড কিনব। সাধারণ ভাবে এটার জন্য আমাকে 6 ডলার পে করতে হবে। কিন্তু আমি কার্ডিং এর মাধ্যমে 1/2 বা 0 ডলারে আমার পেপাল থেকে পে করব এবং গিফট কার্ডটি কিনতে পারব। এই পদ্ধতিকে Html Injection বলা হয়ে থাকে। অনেকে হয়তো বিশ্বাস করতে পারছেন না। আপনি যদি কখনো dark web এর অনলাইন গিফট কার্ড শপে ভিজিট করে থাকেন তাহলে আপনি দেখবেন ওখানে গিফট কার্ড গুলোর মূল্য নরমালি শপের থেকে অনেক কম। কারণ এগুলো কার্ডিং এর মাধ্যমে হ্যাক করে পরে বিক্রি করে। গুগল এ সার্চ করে আরো জানতে পারবেন। ক...